Home / National / আঙিনায় সবজি চাষে বছরে আড়াই লাখ টাকা আয়

আঙিনায় সবজি চাষে বছরে আড়াই লাখ টাকা আয়

হাওর এলাকার উর্বর মাটি সবজি চাষের জন্য খুব উপযোগী। বর্ষার পানি সরতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বাড়ির আঙিনার উঁচু জমি থেকে দ্রুত পানি সরে যায়। এসব উঁচু স্থানে শীতকালীন সব ধরনের শাকসবজি চাষ করা যায়। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ‘সমন্বিত খামার ব্যবস্থা গবেষণার মাধ্যমে হাওর অঞ্চলে খামারের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে উঁচু জমিতে সবজি চাষের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

২০১৫ সালের আগস্ট মাসে প্রকল্পের কাজটি শুরু হয়। এর সুফল বর্তমানে হাওরের কৃষকরা ভোগ করছেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক খলিলুর রহমান ফয়সাল জানিয়েছেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জয়কলশ ইউনিয়নের নোয়াগাও এলাকায় এর কার্যক্রম শুরু হয়। নোয়াগাঁও গ্রামের ১৫৬ জন কৃষকের মধ্যে শতকরা ২৬ ভাগ কৃষক সবজি চাষ করতেন। ২০২১ সালে সেটি শতভাগ হয়েছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী হাওরবেষ্টিত গ্রামগুলোতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরপাড়ের কৃষকেরা এখন বসতবাড়ির আশেপাশে শীতকালীন শাকসবজি যেমন লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শিম, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, স্কোয়াশ, টমেটো, লাল শাক, পালং শাক, মূলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। বাড়ির আশেপাশের কান্দা জমিতে (অপেক্ষাকৃত উঁচু জমি) শীতকালীন সবজি চাষ করা খুবই লাভজনক।

গবেষণায় দেখে গেছে, স্কোয়াশ বিদেশি সবজি হলেও সুনামগঞ্জের হাওরের মাটিতে এর ফলন চমকপ্রদ। হাওরের পলিমাটিতে এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে স্কোয়াশ চাষাবাদের প্রসারতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ও বাজারজাত করা হচ্ছে। কান্দা জমিতে স্কোয়াশসহ যে কোনো সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখছে কৃষক। প্রতিটি চাষি পরিবারে খাদ্য উৎপাদন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা বেড়েছে।

গ্রীষ্মকালেও বাড়ির আঙ্গিনার জমি ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের গবষেণা সহযোগী ও বর্তমানে সিকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক মান্না সালওয়া পড়শি। তিনি বলেন, ‘বর্ষা শুরুর আগেই করলা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, চালকুমড়ার বীজ রোপণ করতে হয়। এভাবে বাড়ির আঙ্গিনায় সারাবছর সবজি চাষ করা যায়।’

প্রকল্পের সুবিধাভোগী খামারগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিটি খামার সারাবছরে গড়ে প্রায় ৪৫৫৯০ টাকা আয় করছে। সমন্বিত খামার ব্যবস্থা গবেষণার প্রকল্পের আগে এসব পরিবারের সবজি চাষে বার্ষিক আয় ছিল মাত্র ২১৪ টাকা। রবিশস্য আবাদে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। বর্তমানে প্রকল্প গ্রামে শুষ্ক মৌসুমে হাওরের প্রতিটি বাড়ি একটি খামার হিসেবে চিত্রায়িত হচ্ছে।

‘সমন্বিত খামার ব্যবস্থা গবেষণার মাধ্যমে হাওর অঞ্চলে খামারের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিয়েছেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম, মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিকি, কৃষি অর্থনীতি ও পলিসি বিভাগের অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম।

গবেষণায় সহযোগী হিসেবে ছিলেন মান্না সালওয়া, মামুন খান, নাসিমা বেগম, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। পিএইচডির ছাত্র হিসেবে এই প্রকল্পে আরও যুক্ত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আজিজ এবং ড. তপন কুমার সাহা।

গবেষক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রকল্পটি শুরুর আগে এ অঞ্চলের কৃষকদের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি সমাপ্তির পর সে আয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। শুধু সবজি নয়, অন্যান্য শস্য, হাঁস-মুরগি, ভেড়া, মাছ ইত্যাদি সমন্বিত চাষের ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

About admin

Check Also

নোবিপ্রবিতে জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সেমিস্টার পরীক্ষা জুলাই মাসে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.