Home / National / হলুদ রঙের তরমুজ চাষে দুলালের সাফল্য

হলুদ রঙের তরমুজ চাষে দুলালের সাফল্য

দুলাল মিয়া (৩০)। কৃষি কাজ করেন। এবার চাষ করছেন হলুদ রঙের তরমুজ। ফলন এতটাই ভালো হয়েছে যে, দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। আর খেতেও রসালো ও সুস্বাদু এই তরমুজ। বিক্রি করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উত্তর হাফিজপুর গ্রামে খেতে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে ঝুলছে হলুদ রঙের তরমুজ। ছোট-বড় তরমুজে নুয়ে পড়েছে মাচা। দেখতে যেন হলুদের সমারোহ। এ উপজেলায় প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। পোকা দমনে ব্যবহার হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। তাতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি। এ তরমুজ চাষ দেখতে ভিড় করছেন এলাকাবাসী।

এর আগে একই চাষি সবজি ও ধান চাষ করে হয়েছেন সফল। এবার বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীমের পরামর্শ গ্রহণ করে হলুদ রঙের তরমুজের চাষ করেন। থাইল্যান্ডের হাইব্রিড জাতের এ তরমুজ চাষে সফল হবেন বলে আশাবাদী চাষি দুলাল মিয়া। উপজেলার উত্তর হাফিজপুর গ্রামের মো. ইদ্রিছ আলীর ছেলে চাষি দুলাল মিয়া জানান, এবছর তিনি ২০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ তরমুজ আছে জমিতে। আর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হবে এসব তরমুজ। তাই বর্তমানে গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে দুলাল মিয়ার।

এখন পর্যন্ত হলুদ রঙের তরমুজ চাষে প্রায় ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। বর্তমান বাজারে হলুদ জাতের তরমুজের প্রতি কেজির দাম প্রায় একশ টাকা। সে হিসেবে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন দুলাল মিয়া। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। চাষি দুলাল মিয়া বাহুবলে প্রথম হলুদ রঙের তরমুজ আবাদ শুরু করে এর প্রমাণ দিয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়েছে। দুলালের তরমুজ চাষে সফলতা দেখে এলাকার অন্য চাষিরাও এ জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও আমার কাছে পরামর্শ চাইছেন। আমি পরামর্শ দিয়েছি। এক কথায় হলুদ রঙের তরমুজ চাষে দুলালের বাজিমাত।’

বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল আউয়াল বলেন, ‘তরমুজ চাষ বাহুবলে ছিল না। আমরা কৃষকদের উৎসাহ দিয়েছি। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে উপজেলার উত্তর হাফিজপুর গ্রামে প্রথম হলুদ তরমুজ চাষ করেন চাষি দুলাল মিয়া। তার ২০ শতক জমিতে চাষকৃত হলুদ তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। প্রমাণ হলো, হলুদ তরমুজ চাষে বাহুবলের মাটি বেশ উপযোগী। এ জাতের তরমুজ রসালো। খেতেও সুস্বাদু।’

About admin

Check Also

নোবিপ্রবিতে জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সেমিস্টার পরীক্ষা জুলাই মাসে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.