Home / National / গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজে বেকারত্ব ঘুচছে তাদের

গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজে বেকারত্ব ঘুচছে তাদের

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নতুন জাতের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় তিন তরুণ এ জাতের তরমুজ চাষ করে উপজেলার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। জেলায় এই প্রথম অল্প জমি ও অল্প পুঁজি দিয়ে অনেক লাভের মুখ দেখছেন তারা। মাত্র দেড় বিঘা জমিতে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তাদের। পাশাপাশি তরুণদের এ তরমুজ চাষ আগ্রহী করে তুলেছে এখানকার কৃষকদেরও। পার্শ্ববর্তী চাষীরা তাদের তরমুজ চাষ ও লাভের কথা ভেবে আগামীতে তরমুজ চাষের কথা ভাবছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ কুড়িগ্রামের কৃষিতে নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। তরুণদের দেখে আগামীতে এর প্রসার বাড়বে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হরিশ্বর তালুক গ্রামে তিন শিক্ষিত বেকার তরুণ এবার গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষ করেছেন। অনার্স পড়ুয়া তিন বন্ধু করোনাকালীন তাদের পড়াশোনা বন্ধ থাকায় পরিবারকে সহায়তা করতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে জেলায় প্রথমবারের মতো এ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। ঢাকায় একজনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা থেকে ৭০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করেন তারা। বীজ এনে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জমিতে ছিটিয়ে দেন, তারপর সাত দিনের মাথায় চারা তুলে রোপণ করেন। এতে দেড় বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

দুই মাস যেতেই টকটকে হলুদ রঙের বাহারি তরমুজ উত্তোলন উপযোগী হয়ে ওঠে। শুরু হয় উত্তোলণের কাজ। বিক্রি হয়েছে, হচ্ছে, খরচ মিটিয়ে দেড় লাখ টাকার ওপরে আয় করার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এজন্য খুশি রাজারহাটের ওই তিন তরুণ। তরমুজ চাষী নুর আলম বলেন, ‘অভাবের কারণে ঢাকায় কাজ করতে গিয়েছিলাম। পরে অনেক ভেবে-চিন্তে আবার এলাকায় ফিরে আসি। ভাবলাম এলাকায় কিছু করা যায় কিনা। কৃষি নিয়ে অনেক আগ্রহ ছিল। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে উচ্চ ফলনশীল তরমুজ চাষে মনোযোগ দেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমরা তিন বন্ধু দীর্ঘ দিন ধরে বাড়িতে বসেছিলাম। এসময় নিজেদের আর্থিক ও পরিবারে সচ্ছলতার জন্য তাইওয়ান জাতের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ চাষের কথা ভাবি। আর এতেই সফলতা মেলে। আমরা চাই আমাদের দেখে অন্য বেকার তরুণ ও যুবকরা এ তরমুজ চাষে এগিয়ে আসবেন।’

তরমুজ ক্ষেত দেখতে আসা তরুণ মাহাবুবুল হাসান জিম বলেন, ‘এই প্রথমবার আমাদের এ উপজেলায় ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। আমরা কয়েকজন দেখতে এসেছি। পদ্ধতি জেনে নিজেরাও চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছি। শুনেছি তারা যে বীজ এনেছেন তাইওয়ান থেকে। এই তরমুজ দ্বিগুণ পুষ্টিসমৃদ্ধ ও মিষ্টি। আমরা বাণিজ্যিকভাবে এই তরমুজ চাষের কথা ভাবছি। কেননা, এতে জেলায় তরমুজের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে সরবরাহ করা যাবে। সেইসঙ্গে বেকারদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘জেলার রাজারহাট উপজেলায় এই প্রথম উন্নত গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে। এটি এ জেলায় প্রথম বাণিজ্যিক ফসল এবং এটি লাভজনকও বটে। তরুণরা সফলতার মুখ দেখেছেন এবং লাভবানও হবেন। কৃষি বিভাগ আগামীতে এ জেলায় তরমুজ চাষের প্রসার ঘটাতে কাজ করবে।’

About admin

Check Also

নোবিপ্রবিতে জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সেমিস্টার পরীক্ষা জুলাই মাসে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *