Home / National / পড়ালেখার পাশাপাশি তুহিনের মাল্টা চাষ

পড়ালেখার পাশাপাশি তুহিনের মাল্টা চাষ

তুহিন ভূইয়া। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন। করোনাকালে কলেজ বন্ধ থাকায় সময় যেন কাটছিল না তুহিনের। সহপাঠী-বন্ধুরা যখন অলস সময় পার করছেন, তখন তিনি বাড়িতে এসে পড়ালেখার পাশাপাশি মাল্টা চাষে মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামে তার বাড়ি। করোনাকালীন অবসর সময়কে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এ ভাবনা থেকে মনোনিবেশ করেন মাল্টা চাষে। কারণ, মাল্টা ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ একটি ফল। এফল যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। তাছাড়া মাল্টা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আর এই মাল্টা চাষাবাদ যেহেতু আমাদের দেশেই বিস্তার লাভ করেছে। আবার অনেকেই মাল্টা চাষ করে সফলও হচ্ছেন, সেই অনুপ্রেরণা থেকে মাল্টা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি।

২০২০ সালের জুন মাসে প্রথমে ৫০ শতাংশ জমিতে বারি মাল্টা-১ দেশীয় জাতের ১৫০টি চারা রোপণ করেন। পরে তার সঙ্গে সহযোগী হন সুজন, ফোরকার নামে তার আরও দুই বন্ধু। এতে আরেকটি বাগান বৃদ্ধি করার জন্য তার চাচাত ভাইয়ের কাছ থেকে ১৩৩ শতাংশ জমি ৮ বছরের জন্য এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে বাগানের পরিধি বৃদ্ধি করেন। রোপণ করেন আরও ২৫০টি চারা। এছাড়া মাল্টা গাছের পাশাপাশি মিশ্রণ বাগান হিসেবে ২৫০টি পেয়ারা গাছও রোপণ করেন। এখন বাগান দুটি তিনি নিয়মিত পরিচর্যা করছেন।

তুহিন ভূইয়া বলেন, ‘মাল্টা বিদেশি ফল হলেও আমাদের দেশে চাষ করে অনেকেই সাফল্য পেয়েছেন। আর সেই অনুপ্রেরণা থেকেই আমার এফল চাষের দিকে আগ্রহ হওয়া। একটি মাল্টা গাছে ৪০০ থেকে ৫০০ পিস মাল্টা আসে। ১৮ মাস বয়সী মাল্টা গাছে ফল আসে এবং গাছটি তিন বছর হলে পরিপূর্ণতা আসে।’

তুহিন আরও বলেন, ‘মাল্টা বাগানের প্রতি উদ্যোগী হওয়া দেখে স্থানীয় কৃষি বিভাগ আমাকে উৎসাহ দেয়। তারা একটি ডিজিটাল স্প্রে মেশিন, বিনামূল্যে চারা, সার ও কিছু ওষুধও দেয়। কৃষি বিভাগের এ উৎসাহ আমাকে মাল্টা বাগানের প্রতি আরও বেগবান হতে সহায়তা করে। আমি এখন পড়াশোনার পাশাপাশি মাল্টাতেই স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।’ ‘আমার চার বছর আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল মাল্টা বাগান করার। এখন করোনা মানুষকে নতুন করে সচেতন হতে শিখিয়েছে। আমি করোনাকালীন সময়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসি। তাই সেই চার বছর আগের ইচ্ছাটা পূরণ করতে সক্ষম হই। এখন পুরোটা সময় পড়াশোনার পাশাপাশি মাল্টা বাগানে ব্যয় করছি।’

একটি পূর্ণ বয়স্ক মাল্টা গাছে প্রায় ৪০ কেজি মাল্টা পাওয়া যায়। পাইকারি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করলে প্রতি গাছ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকার মাল্টা বিক্রি করা যাবে। সে হিসাবে দুটি বাগান থেকে নয় লাখ ৬০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করা যাবে। আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তুহিন আমাদের কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে বারি মাল্টা-১ দেশীয় জাতের মাল্টা বাগান করছেন। তবে মাল্টার পাশাপাশি তিনি মিশ্র বাগান হিসাবে পেয়ারা গাছও রোপণ করেছেন। আমরা তাকে মাল্টা চারাসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করছি। এছাড়াও নিয়মিত তার বাগানের খোঁজখবর রাখছি। আশা করছি, তার বাগান দুটি যদি নিয়মিত পরিচর্যা করেন, তাহলে সময়মতো ভালো ফলন আসবে।’

রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান বলেন, ‘আমাদের দেশে মাল্টা চাষ করে অনেকে যে সফলতা পেয়েছেন, তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও মাল্টা চাষিদের মধ্যে চারাসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিয়মিত তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে রায়পুরা উপজেলায় যারা মাল্টা চাষ করছেন, দেখা গেছে এখানকার মাল্টা অন্যান্য এলাকার চেয়ে অনেকটা মিষ্টি।’

About admin

Check Also

নোবিপ্রবিতে জুলাই থেকে অনলাইনে পরীক্ষা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সেমিস্টার পরীক্ষা জুলাই মাসে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *